দ্য মিররের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন নতুন বই Games of My Life-এ মৃত্যু, স্বাস্থ্য ও জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, মৃত্যুকে তিনি ভয় পান না। কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা তাঁকে মাঝে মাঝে ভাবতে বাধ্য করে, স্টেডিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার দিন পর্যন্ত তিনি টিকবেন কি না।

৮৪ বছর বয়সী ফার্গুসন বইয়ে লিখেছেন: "আমি এমন মানুষ নই, যে সবসময় ভাবে স্রষ্টা আমার জন্য কী সাজিয়ে রেখেছেন। মৃত্যুকেও আমি ভয় পাই না। মৃত্যু যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে, এমনকি সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত সময়েও।"

ফার্গুসন বলেন, জীবনের শেষ নিয়ে দুশ্চিন্তার চেয়ে তিনি বাকি জীবন যতটা সম্ভব উপভোগ করতে চান: "আমার আগ্রহ বরং জীবনকে কীভাবে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়, সেটাতে। এখনও অনেক কিছু করতে চাই, অনেক মানুষের সঙ্গও চাই।"

তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যখন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের বদলে এক লাখ আসনের একদম নতুন স্টেডিয়াম বানানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করে, ফার্গুসন স্বীকার করেন, আয়ু নিয়ে তিনি সেবারই প্রথম গভীরভাবে ভেবেছেন। "মাঝে মাঝে মৃত্যুর কথা তবু মাথায় ভেসে ওঠে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যখন একটা চমকে দেওয়া নতুন স্টেডিয়াম বানানোর কথা জানাল, আমি না ভেবে পারিনি, সেটা উদ্বোধনের সময় আমি কি তখনও থাকব, নিজের চোখে দেখতে পাব।"

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আগেই প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে, এক লাখ ধারণক্ষমতার নতুন স্টেডিয়ামের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। নির্মাণকাল ধরা হয়েছে ৫ থেকে ৬ বছর। এ নিয়ে ফার্গুসন বলেন: "আমি চাই তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু করুক। কারণ শেষ হতে পাঁচ বছর লাগলে তখন আমার বয়স প্রায় ৯০-এর কাছাকাছি। তবে আমি জানি, যেভাবেই হোক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি হাজির থাকব, হয় নিজে সশরীরে, নয়তো আত্মার উপস্থিতিতে।"
ফার্গুসন বইয়ে ২০১৮ সালে নিজের মারাত্মক মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অভিজ্ঞতাও ফিরে দেখেছেন। তিনি জানান, সেদিন স্যালফোর্ড রয়্যাল হাসপাতালে একই ধরনের অস্ত্রোপচার করানো রোগী ছিলেন ৫ জন, শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফিরেছেন মাত্র ২ জন। "আমার পৃথিবী শেষ হওয়ার খুব কাছে চলে গিয়েছিল।" ফার্গুসন লিখেছেন।
তিনি মনে করেন, বেঁচে থাকাটা অনেকগুলো সৌভাগ্যের যোগফল। এর মধ্যে আছে পরিবারের সময়মতো পাশে থাকা, চিকিৎসক ও নার্সদের পেশাদার সিদ্ধান্ত, অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ, এবং চিকিৎসকদের সময়মতো অস্ত্রোপচার। "আমি বেঁচে আছি, এটা আমার সৌভাগ্য।" ফার্গুসন বলেন।
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ থেকে সেরে উঠে ফার্গুসন আবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচ দেখতে যান। সেদিন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিজেদের মাঠে উলভসের সঙ্গে ১-১ ড্র করে। মাঠের সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় তিনি খুবই আপ্লুত হন। তিনি বলেন, গাড়ি থেকে নেমে স্টেডিয়ামে ঢোকার মুহূর্ত থেকেই মনে হয়েছিল "পুরো কমিউনিটি আমার জন্য হৃদয় খুলে দিয়েছে"।
ফার্গুসন স্ত্রী ক্যাথির মৃত্যুর কথাও স্মরণ করেছেন। ২০২৩ সালের এফএ কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি মুখোমুখি হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর আগে ফার্গুসন স্টেডিয়ামে বসে যে শেষ কয়েকটি ম্যাচ দেখেছিলেন, তার একটি ছিল এটা। তখন ক্যাথির শরীর ক্রমে খারাপ হচ্ছিল, তাই এই ম্যাচ তাঁর জন্য বিশেষভাবে কষ্টের ছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ৫৭ বছরের সঙ্গী স্ত্রী ক্যাথি মারা যান। ফার্গুসন বইয়ে লিখেছেন, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পরিবার, বন্ধু, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কর্মী, প্রাক্তন ফুটবলার এবং একাধিক কোচ শোক জানাতে এসেছিলেন। এতে তিনি খুবই আপ্লুত হন। উল্লেখযোগ্য, ক্যাথির মৃত্যুর দুই দিন পর তাঁর দ্বিতীয় প্রপৌত্রের জন্ম হয়, নাম রাখা হয় Isla Catherine। আর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার দুই দিন পর লন্ডনে আরেক প্রপৌত্রের জন্ম হয়, নাম Archibald Alexander Sebastian। ফার্গুসনের অনুভূতি, ক্যাথি এসব দেখতে পেলে নিশ্চয়ই খুব খুশি হতেন।
